Search
Thursday 19 May 2022
  • :
  • :

অরবিন্দ চক্রবর্তীর একগুচ্ছ কবিতা

অরবিন্দ চক্রবর্তীর একগুচ্ছ কবিতা

‘কবিতা এক ধরনের ব্যক্তিগত দিনলিপির প্রচারণা’

আমরা কী এমন মহৎ কাজ করছি যে, একজন ডেভেলপারকে বলা হচ্ছে না তার টাওয়ার ভাবনা লিখতে, একজন কৃষককে তো নয়ই, সুইপারকেও না। আমাকে বলা হচ্ছে! বুঝে কূল পাচ্ছি না আমি ধন্য হবো নাকি দৈন্যবোধ করবো। যা হোক লিখতে বসে বারবার ভাবছি, ‘কবিতা ভাবনা’ জিনিসটা আবার কি? যা লিখি তাই আমার কবিতা, আমার ভাবনা। এখানে লুকোনোর কি কিছু আছে? যদি থেকে থাকে আমি জোর গলায় বলছি, আজ অব্দি কিচ্ছু লুকাইনি, লুকাবোও না। একজন কবির ব্যক্তিগত বলে কিছু থাকে না, আমারও নেই। কাউকে কোনো দিন খুন করে থাকলে- সেটাও আমার সময়ে যথার্থ প্রকাশ করে দেব।
কেটে ছিঁড়ে যাচ্ছে, রক্ত বের হচ্ছে না। তাহলে কি ভেতরকার ছিন্ন ভিন্ন যন্ত্রণা উগরে দেয়াই আমার আনন্দ- আমার কবিতা? হয়তো তাই। নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না এই কারণে যে, আমার চাহিদা মৌলিক হোক- পারটিকুলার হোক। নিয়ত এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকছে না, থাকবার সুযোগ নেই। ধরা যাক, সকালে আমি সাধারণত নাস্তা করি ডিম-পরোটা দিয়ে। অন্যদিন সময়কে মরা গরুর মতো টেনে নিয়ে দুপুর ২টা বাজলে উদরপূর্তি করি। আপনারা বলেন, লাঞ্চ।
তাহলে দাঁড়ালো আমার ব্যক্তিগত রুটিন নেই। এই যে অগোছালো জীবন! আর হিজিবিজি যাপনের মধ্য দিয়ে লেখা হয়ে যাচ্ছে। এসে যাচ্ছে আগামী দিন। বেঁচে থাকলে লিখব, লিখবই। লেখার কোনো বিকল্প নেই। আর যাপনের সকল অনিবার্যতা নিয়ে পাল্টে যাবে কবিতা, আমার ভাবনাও।

watercolor-painting-art-300x210

জানোয়ারের কবিতা

জলমগ্ন পাথরের পাশে যে কয়টা ফুলস্টপ ভেসে বেড়ায়, গলাবাজি করে
গণিত শেখার আগে এসব কমরেডদের তিসিফুল বলাই ভালো।
পাশের বাড়ির বিছানা, তুমিতো জানো
আমার বিড়ালটা সুযোগ পেলেই বাঘ হবার কসরত করে
তাই আমি নির্বাচিত একটা জানোয়ারের জন্য
হুলস্থুল কবিতা করে যাচ্ছি।
যে কানেমুখে জেনে রেখেছ, আমার কোনো দেবী নেই
একমাত্র তুমি আছো।
চাইলে সে আমার মনাঞ্চল হয়ে
সপাসপ ঢুকে যেতে পার আমার নহবত ঘরে।

শহরের বৃষ্টি ও শিল্পকলার নাচ

স্বপ্নবিভাগের ঘুম, তোমাকে পরামর্শ দিয়েছে কে
মাথায় মেঘ ঘষলেই সুস্থ থাকা যায়?
যে জানে না সুখ হচ্ছে বিশ্ব ব্যাংকের পাশ ঘেষে
ঘণ্টি বাজিয়ে উধাও হওয়া খোসপাচরা ও অচ্ছুতমার্গের ছোঁয়াচের নাম।
তাকে আজ মাথায় তুলে দেবো আসছে দিনের রোদ
হিংসুটে হলে কি আর এসে যায়
বরং তুই আজ ভোম্বলের পায়ে নাচ।
দ্যাখ, জন্মের পরে পথ কত নদী দেখেছেÑঅথচ
সমুদ্র শোনেনি রিকশার টুংটাং
এবার যদি কেঁদেই ফেলিস
শুধু বলব, শহরে শিল্পকলার বৃষ্টিরা তুখোর নাচছে।

অপেরা

চুলকানিপ্রবণ মেঘের পক্ষে অথবা বিপক্ষে দাঁড়াচ্ছো না কেন চোতরাপাতা?
তোমার তো রয়েছে অপরিশোধনযোগ্য ভেষজ রোদের আমদানি নিশ্চয়তা।

জানি, খুচরো কয়েনেরও রয়েছে নিম্নবর্গীয় অবজ্ঞা
তবে আমার কোনো টাকশাল নেই। এ সত্যতা যাচাইয়ের আগে
নগদ নারায়ন করে নিয়েছে ক্যাপিটালাইজমে উত্তীর্ন মাননীয় ফুটো।

সুখের মতো ব্যথা যে কত স্বাস্থ্যসম্মত
মেডিকেল ফেরত আমাকে ঝমঝম ভিজিয়ে শেখালো
পথে পথে অধ্যাপনারত বিনয়ী সব ধুলো।

প্রাপ্তবয়স্কের নিভৃত থেকে

ঋতু বদলের বাষ্প কাঁঠাল পাতায় ছেপে নিয়ে সত্য প্রচার করে যাচ্ছো।
আমি ছায়ার উত্তর বংশকে বিলোচ্ছি রোদের গান।

তুমি তাকে তিন ওয়াক্ত যৌন করে
তেঁতুল পাতায় শুতে যাও।

চৈত্রের চোখের কোনে ঘুর্ণিজল আঁকার প্রহসন বুঝে নিয়েছি
তাই করতলে ধুঁকতে থাকা গদ্য
সাংঘাতিক ভূতুড়ে
আমার পুকুরে কাকস্নানে এসে নিরন্তর শুকোতে থাকে।
চুলের যথার্থ নিভৃত থেকে সে খুঁটে খায়
আলোকথকের স্বপ্নবাহিত কথোপকথন।
এবার তাহলে ক্যানভেসারের পথ্য নিয়ে
দিনরাত মুড়ি খেতে থাক।
দরজামুখী কাঁঠাল গাছের বয়স পেতে কতদূর
এইটুকু আমার জেনে নিলেই চলবে।

গাছের ডালে পাখির বাসা

আকাশের ভেংচি খেয়ে যারা বয়স করছেন
আমাদের সামনে কেন আন্ডারওয়ার পরে দাঁড়াবেন।

লাভাভর্তি বুকে ঘরের ভেতরে পেঁচা দেখে অভ্যস্তদের
মনে হয় আকাশের চেয়ে পাকুরগাছের ধমক
জরুরি ছিল।
জিহ্বা সড়কের সেতুর রেলিং ধরে
দাঁড়িয়েছেন বলেই তো আপনি শিখলেন
তেঁতুলবয়ান।

ভাইজান, নিজের ওয়াশরুমে ঢুকে শাওয়ার ছেড়ে দাঁড়ান
আরো শিখবেন তেঁতুলের চেয়ে টক ভালো
পরীর চেয়ে শ্রীমতি ভূত্নি
আর আকাশ যদি দেখেই ফেলেন, হাত না মেরে
গাছের ডালে পাখির বাসা ধুমধাম গুনতে লাগুন।

বিবাহিত ব্যাচেলরের সম্পর্কবীক্ষণ

অসামাজিক তিমি ডাঙ্গায় হত্যা হবার পর
যে প্রেতাত্মা জন্মান্তরিত হলো
আমার ডানকাঁধে তার পা
তোমার বামকাঁধে তার পা
দাঁড়িয়ে মায়াধনু ছড়িয়েছে লোহিতফেনায়।

প্রশংসা লটকানো অবদমনের নিচ দিয়ে নাকউঁচু হেঁটে যেতে যেতে
আশ্বিনমেঘা তলপেটকে একযোগে যা বলা হবে,
তাই সম্পর্কসেতু দেখানো বুয়ানির্ভর ভর্তা-ভাত জটিলতা।




Leave a Reply

Your email address will not be published.