স্পোর্টস ডেস্ক, ৯ সেপ্টেম্বর : ‘এ’ দলের অধিনায়কএকমাত্র ব্যতিক্রম সাকলাইন সজীব। নইলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা আছে ভারত সফরের জন্য কাল ঘোষিত বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বাকি ১৪ ক্রিকেটারেরই। দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক, সহ-অধিনায়ক নাসির হোসেন।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও মুমিনুলের অধিনায়কত্ব করার অভিজ্ঞতা তেমন একটা নেই। অনেক কষ্টে মনে করতে পারলেন, ‘বিসিএলে একবার অধিনায়কত্ব করেছি। এরপর বিসিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিদের নিয়ে হওয়া এক দিনের ম্যাচেও পূর্বাঞ্চলের অধিনায়কত্ব করেছিলাম।’ এবার যে ‘এ’ দলের নেতৃত্ব পেলেন, সেটাও নাকি তাঁর কাছে অপ্রত্যাশিত, ‘এ রকম একটা সফরে অধিনায়কত্ব পেয়ে আমি অবশ্যই খুশি। তবে কল্পনাও করিনি, আমাকে অধিনায়ক করা হবে। এটা অপ্রত্যাশিত। আমি তো খবরটা শুনে অবাক!’

মুমিনুল অধিনায়কত্ব পেয়ে চমকে গেলেও ঘোষিত দলটিতে তেমন চমক নেই। তিনটি এক দিনের ম্যাচ ও দুটি তিন দিনের ম্যাচের ভারত সফরে যে শক্তিশালী ‘এ’ দল পাঠানো হবে, তা আগেই জানা গিয়েছিল। মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মাহমুদউল্লাহর মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা ছাড়া জাতীয় দলের প্রায় সব ক্রিকেটারই দলে আছেন। মুমিনুলের ভাষায় যা ‘খুব ভারসাম্যপূর্ণ’ একটা দল।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল শুধু নিজেরাই শক্তিশালী হয়ে যাচ্ছে না, প্রতিপক্ষও সম্ভবত পেতে যাচ্ছে শক্তিশালী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর ঠিক হলে ভারত ‘এ’ দলে খেলতে পারেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়না ও আম্বাতি রাইডু। উদ্দেশ্য ২ অক্টোবর থেকে শুরু দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের প্রস্তুতি। মুমিনুল অবশ্য এ সম্ভাবনাকে ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছেন, ‘ভারত ভালো দল দিলে আমাদের জন্যই ভালো। অনেক কিছু শিখতে পারব।’

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজের সম্ভাব্য সেরা প্রস্তুতি ধরা হচ্ছে ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচগুলোকে। প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ আলাদা করে বললেন পেসারদের কথা, ‘রুবেল, শফিউল, আল-আমিন সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলেনি। চোটের জন্য তাসকিন তো দূরেই ছিল। পেসারদের সবারই তাই ম্যাচ প্র্যাকটিস দরকার।’ হাঁটুর সমস্যার কারণে ২০১৩ সালের বিসিএলের পর আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা হয়নি তাসকিনের। তবে দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে জাতীয় দলের ফিজিওর ছাড়পত্র পাওয়ায় তিন দিনের ম্যাচগুলোতে খেলার সম্ভাবনা আছে তরুণ এই পেসারের।

‘এ’ দলে এমন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারের ছড়াছড়ির আরেকটি কারণও বললেন ফারুক, ‘আমরা ভারতে ভালো খেলে আসতে চাই, জিততে চাই। আমরা চাই আমাদের ছেলেরা ভালো একটা সিরিজ খেলে আসুক। সে জন্যই শক্তিশালী দল গড়ার চেষ্টা করেছি।’ এ ছাড়া আগামী বছর এক টেস্টের সফরে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়ার কথা। ‘এ’ দলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের রাখার সেটাও একটা কারণ বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক। একমাত্র ব্যতিক্রম সাকলাইনকে দলে নেওয়ারও ব্যাখ্যা দিলেন তিনি, ‘দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে আমাদের বিকল্প বাঁহাতি স্পিনার তেমন একটা নেই। সম্ভাব্যদের মধ্যে সাকলাইনকে অন্যদের চেয়ে বেশি কার্যকর মনে হয়। সে জন্যই তাঁকে একটু দেখতে চাচ্ছি।’

সফর শুরু হবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর। ১৬, ১৮ ও ২০ সেপ্টেম্বর ভারত ‘এ’ দলের বিপক্ষে তিনটি এক দিনের ম্যাচ হবে বেঙ্গালুরুতে। মহিশুরে রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন কর্ণাটকের বিপক্ষে প্রথম তিন দিনের ম্যাচ শুরু ২২ সেপ্টেম্বর। বেঙ্গালুরুতে ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু দ্বিতীয় তিন দিনের ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভারত ‘এ’ দল।
বাংলাদেশ ‘এ’ দল

মুমিনুল হক (অধিনায়ক), নাসির হোসেন (সহ-অধিনায়ক), এনামুল হক, রনি তালুকদার, লিটন কুমার দাস, সাব্বির রহমান, সৌম্য সরকার, সাকলাইন সজীব, আরাফাত সানি, রুবেল হোসেন, শফিউল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শুভাগত হোম চৌধুরী ও জুবায়ের হোসেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *